চিপ সংকটে দেশ, দাম বৃদ্ধির শঙ্কা

২২ মার্চ, ২০২১ ০০:০২  

হাতের ঘড়ি বা মোবাইল থেকে শুরু করে, ল্যাপটপ, বাসার স্মার্ট টিভি, ফ্রিজ, গাড়ি সবস্থানে ছুঁয়ে গেছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তিবিষয়ক এসব পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা চিপ।

চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বিশ্ববাজারে চিপ সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। এই সংকটের হাওয়া লেগেছে দেশের প্রযুক্তিবিষয়ক পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও।

চিপ সংকটের মূল কারণ হিসেবে চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এবং সিম্ফনি। উভয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্ণধররা জানিয়েছেন চিপ সংকটের কারণে নতুন পণ্যের দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মূল্যে কেনা চিপ সম্বলিত পণ্যের দাম না বাড়লেও নতুন দামে কেনা চিপ সম্বলিত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে।

উভয় প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দেশীয় বাজারে প্রযুক্তি পণ্যের কাঁচামাল বিশেষ করে প্যানেল তৈরি না হওয়ায় বাইরের দেশের প্রস্তুতকারদের উপর নির্ভর হয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে ওয়ালটন ডিজি টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর  ও কম্পিউটার পণ্যের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী বলেন, 'করোনাকালে মানুষ তার জীবনযাত্রাকে সচল রাখার জন্য ডিজিটাল ডিভাইস নির্ভর হয়ে পড়ে। যার ফলস্রুতিতে ফলস্রুতিতে ডিজিটাল ডিভাইসের ক্রাইসিস (সংকট) আমরা দেখতে পাচ্ছি। চাহিদা বেড়ে গেছে। যেটি টার্গেট ছিল প্রত্যেকটি ডিজিটাল মেনুফেকচারিং প্রতিষ্ঠানের সেই টার্গেটের চেয়েও কাস্টমারদের রিকয়রমেন্ট বেশি। সেটিকে সংকুলন করতে গিয়ে কাঁচামাল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিমশিম খাচ্ছে। ফলে সাময়িকভাবে কাঁচামালের সংকট দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এসব কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি হচ্ছে।' ওয়ালটনের করপোরেট কার্যালয়/ছবি: সংগৃহীত

'বিশ্বের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ওয়ালটনকেও এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আইটির যে সাপ্লাই চেইন, সেগুলোর অনেক অংশই আমরা কন্ট্রোল করতে পারি না। যেমন প্যানেল। এটির এখন খুব সংকট যাচ্ছে। এই সংকটের কারণে বেশি দামে কাঁচামাল কিনতে হচ্ছে, ফলে ওইসব কাঁচামাল দিয়ে যেসব পণ্য বাজারে আসছে সেসব পণ্যের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।', যোগ করেন তিনি।

বাইরের অন্যান্য ব্রান্ড যেহারে মূল্যবৃদ্ধি করছে সেই তুলনায় ওয়ালটনের পণ্যের দাম প্রায় সবক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কম বলেও জানান তিনি।

শুধু ওয়ালটন নয়, দেশীয় মোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিম্ফনিকেও ভুগতে হচ্ছে চিপ সংকটের কারণে। প্রতিষ্ঠানটিকেও ভাবতে হচ্ছে পণ্যের দাম নিয়েও।

২০২১ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল ১০০ ভাগ উৎপাদনে যাওয়া। তবে চিপ সংকটের কারণে এই লক্ষ্য থেকে কিছুটা পিছিয়ে যেতে হচ্ছে সিম্ফনিকে। একই সঙ্গে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা না ঘটলেও নতুন কর্মী নিয়োগও কিছুটা পিছ পা হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিম্ফনি মোবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শাহিদ। সিম্ফনির মোবাইল কারখানা/ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, 'সাপ্লাই চেইন স্মুথ না হলে এই প্রজেক্ট (১০০ ভাগ উৎপাদন) আমাদের কিছুটা ডিলে হবে। হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। সেইক্ষেত্রে নতুন নিয়োগ আমরা এই সময়ে বন্ধ রাখবো। আশা করি জুনের পর চিপের দাম এবং সাপ্লাই চেইনে লাগাম ফিরবে।'

এদিকে ওএলইডি ডিসপ্লে সংকটের কারণে আইফোনের উৎপাদন নিম্নের দিকে। চিপ সংকটের কারণে পিছিয়ে পড়েছে স্যামসাং, নোকিয়াসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন।

প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণা অতিসত্তর এই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটবে। তবে ওয়ার্ল্ড সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস এশিয়া প্যাসিফিক এর ভাইস চেয়ার গাবরিয়েল চৌ এর মতে, চিপ সংকটের সমাধান হতে সময় লাগবে। এত শিগগিরই হচ্ছে না এই সংকটের সমাধান।